পুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

পুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ চুলের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন এর মধ্যে চুল পড়া প্রধান। পুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায় কী এ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত।  চুল উঠা স্থায়ী বা অস্থায়ী হতে পারে।

এই চুল পড়ার কারণ বিভিন্ন হতে পারে। যেমন- ভিটামিন, লবণ, জিনের সমস্যা, অতিরিক্ত মাথা ঘেমে যাওয়া, মাথা অপরিষ্কার থাকা, মাথায় অতিরিক্ত খুশকি, অতিরিক্ত মানুসিক চাপ, সব সময় মাথায় ক্যাপ বা হেলমেট পড়ে থাকা ইত্যাদি। এছাড়া বয়সের সাথে সাথে মানুষের চুল উঠা বৃদ্ধি পায় এবং মাথায় টাক পড়তে থাকে।

পুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
চুল পড়ার কারণ

চুল পড়ার কারণ সমূহ-

  • অতিরিক্ত মানুষিক চাপের কারণে অনেকের অল্প বয়সে মাথার চুল অর্ধেক হয়ে যায়। স্বাস্থবিজ্ঞানে অতিরিক্ত মানুষিক চাপকে সকল রোগের উৎসহ বলা হয়ে থাকে। এর মধো চুল পড়ে যাওয়া একটি।
  • চুলের গোড়া অপরিষ্কার থাকার কারণে মাথার চুল পড়ে যায়। চুলের গোড়া অপরিষ্কার থাকার কারণে মাথায় বিভিন্ন ধরণের জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে এতে চুলের গোড়ায় ঘাঁ হয়ে চুল উঠে যায়।
  • মানুষের হরমোন পরিবর্তন হলে চুল পড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া বেশির ভাগ জেনেটিক সমস্যার কারণে চুল পড়ে যেতে পারে। আপনার দাদা, বাবা, চাচার যদি চুল উঠে, মাথায় টাক পড়ে যায় তাহলে আপনারও মাথায় টাক পড়তে পারে। এটাকে বংশগত কারণ বলা হয়।
  • অতিরিক্ত ধুমপান, মদ্যপান করলে বা অ্যালকোহল নিলে চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশী থাকে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে যারা নেশা করে তাদের এই সমস্যা বেশী দেখা যায়।
  • কঠিন কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে থাকলে বা দৈর্ঘদিন ঔষধ সেবন করলে মানুষের চুলে উঠে যেতে পারে।
  • খুশকি জনিত কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাথায় অনেক দিন যাবত খুশকি থাকলে চুলেন গোড়া চুলকায় আর এ চুলকানোর সাথে সাথে অনেক চুল ঝরে যেতে পারে।
  • সব সময় ক্যাপ বা হেলমেট পড়ে থাকলে মাথা ঘেমে যায় এতে চুলের গোড়ায় আলো-বাতাস ঢুকতে পারে না ফলে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল উঠে যায়।
  •  ভিটামিন বা খনিজ লবনের পরিমার দেহের মধ্যে কম থাকলে। সাক-সবজি কম খেলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
পুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

পুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায় সমূহ –

  • সব সময় চুল পরিষ্কার রখুন: মাথার চুল সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নিয়মিত হেয়ার কন্ডিশনার দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে সকল হেয়ার কন্ডিশনার চুলের জন্য ক্ষতিকর তা ব্যবহার না করাই ভালো।
  • ভিটামিন গ্রহণ করুন: বেশি বেশি ভিটামিন, আমিষ জাতিয় খাবার খেতে হবে। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় সাক-সবজি রাখুন। দৈনিক কম বেশী ফল-মূল খেতে হবে। এতে দেহের ভিটামিন ঠিক থাকবে চুলের গোড়া শক্ত থাকবে।
  • মাথায় তেল ব্যবহার করুন: মাথায় নিয়মিত তেল ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ বার ভালো মানের তেল ব্যবহার করুন। তিলের তেল, বাদামের তেল, মেথি এগুলো ব্যবহার করলে চুল উঠা কমে এবং চুলের গোড়া অনেক শক্ত রাখে।
  • ভেজা চুল চিরনি করবেন না: মাথার চুল ভেজা অবস্থায় চিরনি করবেন না কারণ ভেজা অবস্থায় মাথার চুল অনেক নরম ও দূর্বল থাকে । এ অবস্থায় চিরনি করলে চুলে অনেক বেশি টান পরে খুব সহজে চুল উঠে আসে।
  • পেয়াজ,আদা বা রসুনের রস ব্যবহার করুন: প্রতিদিন বা সপ্তাহে  ২ থেকে ৩ দিন রসুন, আদা বা পেয়াজের রস শোয়ার সময় মাথায় লাগিয়ে সারা রাত রেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল ঝরে যাওয়া অনেক কমে যাবে এবং চুলের নানা রকম সমস্যা দুর হয়ে যাবে।
  • বেশি বেশি পানি পান করুন: প্রতিটি চুলের গোড়ায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ পানি থাকে। তাই চুলের গোড়া শক্ত রাখতে এবং চুলে পানির পরিমান ঠিক রাখতে দৈনিক ‍দিন প্রায় ৪ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করুন।
  • ধূমপান, মদ্যপান ত্যাগ করুন: ধূমপান, মদ্যপান বা অ্যালকোহল গ্রহণ  চুল পড়ার অন্যতম একটি কারণ। এগুলো চুলের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে এবং চুলে সকল ধরনের পুষ্টি গুনাগুন নষ্ট করে দেয়। ধূমপান, মদ্যপান ত্যাগপুরুষের চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হতে পারে।
  • মানুষিক চাপ কমান: অতিরিক্ত মানুষিক চাপ দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। মানুষিক চাপ মাথায় বড় ধরনের প্রবাভ বিস্তার করে যা চুলের জন্য ক্ষতিকর । ‍নিজেকে বিভিন্ন কাজে ব্যাস্থ রেখে বা খেলাধুলা, বিনোদন, শারীরিক ব্যয়াম এর মাধ্যেমে অতিরিক্ত মানুষিক চাপ কমানো সম্ভব।
  • ক্যাপ বা হেলমেট ব্যবহার কমান: প্রয়োজন ছড়া ক্যাপ বা হেলমেট ব্যবহার করবেন না। সবসময় ক্যাপ বা হেলমেট ব্যবহার করলে মাথা অতিরিক্ত ঘেমে যায় এতে চুলে বিভিন্ন জিবাণু সংক্রমন ঘটে, চুলের গোড়ায় খুশকি তৈরি হয়। এই কারণে অনেক বেশি চুল পড়ে যায়।
  • চলে রাসায়নিক পদার্থ বা কালার পরিহার করুন: আজ কাল বেশির ভাগ মানুষ চুলে কালার বা বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেল লাগাতে পছন্দ করে।  বিভিন্ন ধরনে রাসায়নিক পদার্থ বা কালার চুলের গোড়া হালকা করে দেয় এবং চুলের মারাত্নক ক্ষতি সাধন করে । ফলে মাথার চুল উঠে যাওয়ার পরিমান অনেক বেশি হয়।
Spread the love

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *